সতর্কবার্তা: ঈমান ভঙ্গের ১০টি প্রধান কারণ
সতর্কবার্তা: ঈমান ভঙ্গের ১০টি প্রধান কারণ
একজন মুমিনের কাছে তার সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো ঈমান। কিন্তু অনিচ্ছাসত্ত্বেও কিছু কাজের কারণে আমাদের অজান্তেই ঈমান নষ্ট হয়ে যেতে পারে। প্রখ্যাত আলেম শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব (রহ.) তাঁর বিখ্যাত কিতাব ‘নাওয়াকিজুল ইসলাম’-এ ঈমান ভঙ্গের ১০টি মূল কারণ উল্লেখ করেছেন:
১. ইবাদতে শিরক করা
আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে অংশীদার করা বা এমন কাউকে ডাকা যা কেবল আল্লাহর জন্য প্রাপ্য। যেমন: আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে সেজদা করা বা কারো নামে মানত করা।
২. মধ্যস্থতাকারী মানা
আল্লাহ এবং নিজের মাঝে কোনো সৃষ্টিকে (পীর, মৃত ব্যক্তি বা অন্য কিছু) সুপারিশকারী বা মধ্যস্থতাকারী মনে করে তাদের কাছে দোয়া করা।
৩. কাফেরদের কাফের মনে না করা
যারা স্পষ্টতই কাফের বা মুশরিক, তাদেরকে কাফের মনে না করা বা তাদের কুফরি নিয়ে সন্দেহ পোষণ করা।
৪. অন্য বিধানকে শ্রেষ্ঠ মনে করা
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ বা আদর্শের চেয়ে অন্য কারো আদর্শ বা মানব রচিত আইনকে শ্রেষ্ঠ বা উত্তম মনে করা।
৫. দ্বীনকে ঘৃণা করা
ইসলামের কোনো বিধান বা রাসূল (সা.) যা নিয়ে এসেছেন, তার কোনো অংশকে অপছন্দ বা ঘৃণা করা (এমনকি তা নিজে পালন করলেও)।
৬. দ্বীন নিয়ে ঠাট্টা করা
ইসলাম, কুরআন, রাসূল (সা.) বা দ্বীনের কোনো ছোট বিষয় নিয়ে উপহাস বা ব্যঙ্গ করা।
৭. জাদুবিদ্যা
জাদু করা, জাদুর সাহায্যে কোনো কিছু করা বা জাদুর প্রতি সন্তুষ্ট থাকা।
৮. মুসলমানদের বিরুদ্ধে কাফেরদের সাহায্য করা
মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে বা শত্রুতায় কাফের ও মুশরিকদের পক্ষ নেওয়া বা তাদের সহযোগিতা করা।
৯. শরিয়ত বহির্ভূত চলাকে বৈধ মনে করা
একথা বিশ্বাস করা যে, কারো কারো জন্য মুহাম্মাদ (সা.)-এর শরিয়তের বাইরে চলা জায়েজ (যেমন খিজির আ.-এর উদাহরণ ভুলভাবে ব্যবহার করা)।
১০. দ্বীন থেকে বিমুখ হওয়া
আল্লাহর দ্বীন শেখা এবং তা পালন করা থেকে সম্পূর্ণ মুখ ফিরিয়ে নেওয়া।

Comments
Post a Comment